খেলাধুলা

এক অন্যরকম চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি সাহসী যোদ্ধা মাশরাফি

ডেক্স রিপোর্ট: অধিনায়ক হিসেবে এটাই তার শেষ সিরিজ কিনা, তা নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। ভক্ত-সমর্থকরা তো বহুদূরে, খোদ মাশরাফি বিন মর্তুজা নিজেও তা জানেন কিনা, সন্দেহ।

কারণ পুরো বিষয়টি এখনো ধোঁয়াশায়। কারো কাছেই পরিষ্কার নয়, আসলে কি হবে। কারণ মাশরাফি নিজ থেকে যেমন পরিষ্কার করে কিছু বলেননি, আবার বোর্ড থেকেও ঘোষণা আসেনি যে, এটাই মানে বাংলাদেশ আর জিম্বাবুয়ে সিরিজই হবে অধিনায়ক মাশরাফির বিদায়ী সিরিজ।

বরং তা নিয়ে নানারকম কথাবার্তা, গুঞ্জন। জল্পনা-কল্পনার ফানুস বাতাসে। পুরো বিষয়টি আসলে এখনো অনিশ্চয়তার দোলাচালে দুলছে। একবার মনে হচ্ছে এটাই অধিনায়ক মাশরাফির শেষ সিরিজ। পরক্ষণে মনে হচ্ছে, নাহ শেষ না। আরও আছে। ভবিষ্যতেও নেতৃত্ব দেবেন দেশের ক্রিকেট ইতিহাসের সব সময়ের সেরা অধিনায়ক।

ভেতরের খবর, নানা কারণেই তার থেকে যাবার সম্ভাবনা আছে। সাকিব আল হাসান সাসপেন্সনের খাড়ায় ঝুলছেন। দল খেলছে মূল চালিকাশক্তি ছাড়া। এখন মাশরাফিও যদি এই সিরিজ শেষে অধিনায়কত্ব ছেড়ে দেন, তাহলে নেতৃত্বে আসবে পরিষ্কার শূন্যতা। টিম বাংলাদেশ হারাবে বড় ‘অভিভাবক।’

মাঝে মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ কয়েকবার দল পরিচালনা করেছেন, কিন্তু মাশরাফির অভাব পূরন হয়নি। নেতৃত্বে শূন্যতা চোখে পড়েছে বেশ। সেই সাথে সাকিব আর মাশরাফি এক সাথে না থাকায় বাংলাদেশ দলের ‘গ্ল্যামারেও’ ঘাটতি পরিলক্ষিত হয়েছে। যে দুজন দলের সবচেয়ে বড় বিজ্ঞাপন, সেই সাকিব-মাশরাফি দুজনারই না থাকার অর্থ দলের ‘ব্র্যান্ডভেল্যু’ কমে যাওয়া।

নেতৃত্ব শূন্যতার পাশাপাশি বাণিজ্যিক ক্ষতিও আছে, তাই বোর্ডও কিছুটা চিন্তায়। দেশের ক্রিকেটে মাশরাফির রীতিমত ‘মহিরুহ।’ দেশের ক্রিকেট ইতিহাসের সফলতম অধিনায়ককে তো আর বিসিবি চাপ দিয়ে অবসরে পাঠাতে পারে না।

এর বাইরে বাণিজ্যিক দিক চিন্তা করলেও আপাতত মাশরাফিকে রেখে দেয়া ছাড়া পথ নেই। টিম স্পন্সর মূল্য কমে গেছে। সাকিব ও মাশরাফিবিহীন দলকে স্পন্সর করতে গিয়ে দ্বিধায় বড় বড় কর্পোরেট হাউজগুলো। তাই মোটা অংকের অর্থে টিম স্পন্সরও মিলছে না।

এসব নানা কারণেই মাশরাফি ইস্যু খানিক ধোঁয়াটে। তারপরও বিশ্বকাপের পর আলোচিত মাশরাফির প্রথম মাঠে নামা। স্বভাবতই টাইগারদের সাথে জিম্বাবুইয়ানদের লড়াই ছাপিয়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এই মহানায়ক। যত কথা তাকে নিয়েই।

সবাই উন্মুখ, এ সিরিজটা কেমন হয় দেখতে। দেখতে এই সিরিজে মাশরাফি কেমন খেলেন, কি করেন। বিশ্বকাপে নিজেকে মেলে ধরতে না পারা নড়াইল এক্সপ্রেস আবার স্বরূপে ফিরতে পারেন কিনা, বল হাতে আবার আগুন ঝরাতে পারেন কিনা সেটি দেখার আগ্রহ সবার।

এর মধ্যে গতকাল শনিবার সিরিজ শুরুর আগে আনুষ্ঠানিক সংবাদ সন্মেলনে এক প্রশ্নর জবাব দিতে গিয়ে মাশরাফির খানিক আবেগতাড়িত হয়ে পড়ার ঘটনায় এখন অন্যরকম আলোচনা।

কথা বার্তায় পরিষ্কার, ভেতরে অনল জ্বলছে। এ অনল নিজেকে মেলে ধরার। ভেতরে ভেতরে ফুঁসছেন নড়াইলের চিত্রা পাড়ের এ ক্রিকেট সৈনিক। নিজেকে মেলে ধরতে মুুখিয়ে আছেন। বিশ্বকাপে হয়ত পারেননি, তবে তিনি এখনই ফুরিয়ে যাননি, তা প্রমাণের জন্য তেঁতে আছেন মাশরাফি।

তিনি পারেন। কোন কিছুই তাকে বিন্দু মাত্র টলাতে পারে না। ভয়-ডর তাকে গ্রাস করতে পারে না। চিন্তা-ভাবনাও প্রখর। মাশরাফিকে চিন্তিত হতে দেখা যায় খুব কম।

হ্যাঁ, এটা সত্য, বিশ্বকাপের সময় থেকে বোলার মাশরাফি যতটা অনুজ্জ্বল, পুরো ক্যারিয়ারে আর কখনই এতটা অনুজ্জ্বল ছিলেন না। ২০১৮ সালের ১৪ ডিসেম্বর এই সিলেট স্টেডিয়ামে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ৯ ওভারে ৩৭ রানে ২ উইকেট পাবার পর থেকেই যেন খারাপ সময় শুরু মাশরাফির।

বিশ্বকাপের আগে ডাবলিনে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে পর পর দুই ম্যাচে অবশ্য ৩ উইকেট পেয়েছিলেন। কিন্তু ২০১৯ সালের ১৩ মে ক্যারিবীয়দের বিপক্ষে ৬০ রানে ৩ উইকেট শিকারের পর আর কোন ম্যাচে দুই উইকেটও পাননি। শেষ ১০ ওয়ানডের ৯টিতেই উইকেটশূন্য।

তাই বলে মাশরাফি খুব চাপে আছেন। উইকেট না পাওয়ায় হতাশায় ডুবে আছেন, এসব ভাবার কোনোই কারণ নেই। শত প্রতিকূলতা, বাধা-বিপত্তিকে জয় করার অসামান্য ক্ষমতা আছে তার। একবার নয়, বারবার বহুবার ইনজুুরিকে জয় করেছেন। নানা চড়াই উৎরাই পাড়ি দিয়ে দেড় যুগের বেশি সময় আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নিজের অস্তিত্ব ধরে রেখেছেন।

হাঁটু-গোড়ালির ইনজুুরি, ছোট বড় মিলে ছয়-সাতটি অপারেশনের ধকল সামলে নিজের ক্যারিয়ার টিকিয়ে রেখেছেন মাশরাফি। সেই মাশরাফি কি এত সহজেই দমে যাবেন? সমালোচকদের কটু কথায় দুর্বল হয়ে পড়বেন? নিশ্চয়ই না। বরাবরই নিজেকে জয় করা মাশরাফির সামনে এবার সমালোচকদের কড়া জবাব দেয়ার মিশন। এবার তার সামনে অন্যরকম চ্যালেঞ্জ।

দেখা যাক, সেই অন্যরকম চ্যালেঞ্জটা কিভাবে জয় করেন বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসের সেরা অধিনায়ক!

আরো পড়ুন

Show More

Related Articles

error: Do not copy any text from this website. Copyrighted Sundarbanstimes thanking by Editor
Close