Home অপরাধ দফায় দফায় ধর্ষণ করল বাংলাদেশি কিশোরীকে সৌদি নিয়ে

দফায় দফায় ধর্ষণ করল বাংলাদেশি কিশোরীকে সৌদি নিয়ে

43

ডেক্স রিপোর্ট: সৌদি আরবে গণধর্ষণের শিকার হয়ে তিন মাস ধরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এক বাংলাদেশি কিশোরী গৃহকর্মী। দেশটির রাজধানী রিয়াদে ধর্ষণের শিকার হওয়ার পর সেখানকার একটি হাসপাতালে তার চিকিৎসা চলছে।মেয়েটির বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগর উপজেলায়। সংসারের অভাব ঘুচাতে গত বছরের ৪ অক্টোবর দালালদের ভালো কাজের প্রলোভনে সৌদি আরব যায় ওই কিশোরী।

ভুক্তভোগীর পরিবার জানিয়েছে, পাসপোর্টে ২৫ বছর বয়স দেখিয়ে ১২ বছর বয়সী কিশোরীকে সাদ্দাম নামে এক দালালের সহায়তায় সৌদি আরব পাঠানো হয়। জেনিয়া ওভারসিজ (লাইসেন্স নম্বর-১২২০) নামের একটি প্রতিষ্ঠান তার ভিসার ব্যবস্থা করে দেয়।

ভুক্তভোগী কিশোরীর অভিযোগ, সৌদি আরব যাওয়ার ১০ দিনের মাথায় তার ওপর পাশবিক নির্যাতন শুরু হয়। একটি কক্ষে আটকে রেখে তাকে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে তিন দিন ধর কয়েকজন দফায় দফায় ধর্ষণ করে।এর এক পর্যায়ে অজ্ঞান অবস্থায় তাকে রিয়াদের ছিমুছি হাসপাতালে রেখে যায় ধর্ষকরা। সেখানে তিন মাস চিকিৎসা নেওয়ার পর কিছুটা সুস্থ হয়ে উঠেছেন ওই কিশোরী।

এর মাঝে গত ১২ জানুয়ারি, রবিবার তাকে ছিমুছি হাসপাতাল থেকে ১৫০ মাইল দূরে তোমাইর হাসপাতালে হস্তান্তর করা হয়। সেখানে ভাঙা গলায় একটু একটু কথা বলতে পারলেও বিছানা থেকে উঠে বসতে পারছেন না তিনি।তোমাইর হাসপাতালে কর্মরত এক বাংলাদেশি বলেন, ‘কিভাবে নির্যাতনের শিকার হয়েছে তা ভাষায় প্রকাশ করা যাবে না। ধর্ষণের পাশাপাশি শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে তরুণী গৃহকর্মীর।’

ওই কিশোরীর বরাতে তিনি আরো জানান, যে অফিসের মাধ্যমে মেয়েটি সৌদিতে এসেছিল সেখানকার বাংলাদেশিরাও এ ঘটনায় জড়িত ছিল। মেয়েটি এতটুকু বলতে পারে- তার উপর কিছু লোক ঝাঁপিয়ে পড়েছিল। অজ্ঞান হয়ে গেলে আর কিছুই মনে নেই তার।

ভুক্তভোগীর বাবা এ বিষয়ে বলেন, ‘দালাল সাদ্দাম হোসেনের কাছে আমার মেয়ের বিষয়ে জানতে চাইলে সে জানায়, আমার মেয়ে রোড অ্যাকসিডেন্ট করে হাসপাতালে ভর্তি আছে।’পরে ওই হাসপাতালে কর্মরত এক বাংলাদেশির ফোন নম্বর নিয়ে মেয়ের সাথে কথা বলে তিনি আসল ঘটনা জানতে পারেন।

হাসপাতালের ক্লিনারের কাজ দেওয়ার কথা বলায় তিনি মেয়েকে সৌদি আরব পাঠাতে রাজি হন বলেও জানান ওই কিশোরীর বাবা।সৌদি আরবে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত গোলাম মসিহ এ বিষয়ে বলেন, ‘এই জঘন্য কাজের সাথে যারা যারা জড়িত তাদের সবাইকে বিচারের আওতায় আনা হবে।’ বাংলাদেশ দূতাবাস ওই কিশোরীর চিকিৎসাসহ সর্বাত্মক সহায়তা প্রদান করবে বলেও জানান তিনি।

এ ঘটনায় জড়িত অপরাধীদের বিচার সুনিশ্চিত করে মেয়েটিকে দেশে ফেরত আনতে সৌদি আরবের বাংলাদেশ দূতাবাস ও বাংলাদেশ সরকারের হস্তক্ষেপ কামনা করেছে ভুক্তভোগীর পরিবার।আরো পড়ুন